বৃহস্পতিবার | ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | সকাল ১০:৪৬
শিরোনাম :
কফি রিফিল প্যাকেজিংয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: অ্যামকর আনলো ‘রিসাইকেল-রেডি’ পেপার পাউচ খাদ্যপণ্য মোড়কজাতের নানা অনিয়ম, পর্যবেক্ষণ এবং সুপারিশ ফরিদপুরে পলিথিন বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের আধুনিক প্ল্যান্ট উদ্বোধন সঙ্কুচিত নাকি স্ট্রেচ র‍্যাপ? ব্যবসার জন্য সেরা পছন্দ কোনটি? প্লাস্টিক খেকো কীটের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা, মিলছে সম্ভাব্য সমাধান অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এখনও কেন প্যাকেজিংয়ের প্রধান উপাদান প্লাস্টিক তৈরির গোপন রহস্য – কীভাবে জন্ম নেয় আমাদের দৈনন্দিন সঙ্গী? উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিপণনে প্যাকেজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা TIPA-এর নতুন উদ্ভাবন: উন্নত হোম কম্পোস্টেবল ফিল্ম ITC Packaging-এর নতুন থার্মোফর্মড কম্বিকাপ
প্লাস্টিক খেকো কীটের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা, মিলছে সম্ভাব্য সমাধান

প্লাস্টিক খেকো কীটের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা, মিলছে সম্ভাব্য সমাধান

বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণের সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে, কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা একটি আশাব্যঞ্জক সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। ওয়াক্স মথ (Galleria mellonella) নামক একটি কীটের বিশেষ ধরনের এনজাইমের মাধ্যমে প্লাস্টিক ভাঙা সম্ভব, যা পরিবেশের জন্য এক বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।

২০১৭ সালে বিজ্ঞানী ফেদেরিকা বার্টোচিনি প্লাস্টিক ভাঙতে সক্ষম এই কীটটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ওয়াক্স মথ সাধারণত মৌচাকের মধ্যে দেখা যায় এবং মৌমাছিদের জন্য ক্ষতিকর হলেও, ফেদেরিকা একদিন দেখতে পান যে এই কীটের মুখে প্লাস্টিকের ব্যাগে ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি হচ্ছে। এটি তাঁর জন্য একটি “ইউরেকা” মুহূর্ত ছিল, যেহেতু তিনি বুঝতে পারেন, কীটটি এমন কিছু করছে যা বিজ্ঞানীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল—প্লাস্টিক ভাঙা।

ফেদেরিকা এবং তাঁর দলের গবেষণায় জানা যায়, এই কীটের লালায় দুটি বিশেষ এনজাইম—সেরেস এবং ডিমিটার—প্লাস্টিকের পলিথিনকে অক্সিডাইজ করে এবং এটিকে ভেঙে ফেলে। এর ফলে প্লাস্টিক খাদক এই কীটটি পরিবেশের জন্য একটি দারুণ আশাব্যঞ্জক আবিষ্কার হয়ে ওঠে।

এখন, প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪০ কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার একটি বড় অংশ জলজ বাস্তুতন্ত্রে চলে যায়। এসব প্লাস্টিক সাধারণত শতাব্দীর পর শতাব্দী পর্যন্ত ভাঙতে সময় নেয়। কিন্তু এই কীট এবং এর এনজাইমের মাধ্যমে, বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, পরিবেশকে রক্ষা করতে এক নতুন দৃষ্টিকোণ সৃষ্টি হবে।

বর্তমানে, ফেদেরিকা বার্টোচিনি ফ্রান্সের একটি বায়োরিসার্চ স্টার্টআপ, প্লাস্টিসেনট্রপি-র প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। তার প্রতিষ্ঠান প্লাস্টিক ভাঙতে এনজাইম ব্যবহার নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, “এই এনজাইমগুলি প্লাস্টিক বর্জ্যে প্রয়োগ করে পরিবেশের সমস্যা সমাধান করতে পারবে।”

এছাড়া, সম্প্রতি একটি নতুন অমেরুদণ্ডী প্রাণী, সুপারওয়ার্ম (Zophobas morio), প্লাস্টিকের পলিস্টাইরিন খাবার হিসেবে হজম করে ওজন বাড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। এরকম বিভিন্ন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ৩০,০০০ এর বেশি এনজাইম খুঁজে পেয়েছেন, যা প্লাস্টিক ভাঙতে সহায়তা করতে পারে।

এই আবিষ্কার শুধু প্লাস্টিক দূষণ কমানোর জন্যই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই, ওয়াক্স মথ এবং অন্য প্লাস্টিক খেকো প্রাণীদের সাহায্যে একটি পরিষ্কার এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।

 

শেয়ার করুন





Translate Site »