বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে প্যাকেজিং শিল্পও দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। খাদ্য, ওষুধ, ই-কমার্স ও ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে প্যাকেজিং খাতের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
প্যাকেজিং শিল্পের সম্ভাবনা
১. ক্রমবর্ধমান বাজার ও চাহিদা
খাদ্য ও পানীয়, ফার্মাসিউটিক্যাল, কসমেটিকস, ই-কমার্স এবং কৃষি খাতে মানসম্মত প্যাকেজিংয়ের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে একবার ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিং (single-use packaging) ও পরিবেশবান্ধব বিকল্পের দিকে ঝুঁকছে বাজার।
২. রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাজারের সুযোগ
বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস, ওষুধ, কৃষিজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং নিশ্চিত করা গেলে দেশের রপ্তানি বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।
৩. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উদ্ভাবন
নতুন প্রযুক্তি, যেমন—ফ্লেক্সোগ্রাফিক ও রোটোগ্র্যাভিউর প্রিন্টিং, স্মার্ট লেবেলিং, ও বায়োডিগ্রেডেবল প্যাকেজিং, শিল্পের বিকাশকে ত্বরান্বিত করছে।
৪. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
প্যাকেজিং খাত সরাসরি ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানো হলে এই খাত আরও সম্ভাবনাময় হতে পারে।
৫. সরকার ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ
সরকার প্যাকেজিং শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে, যেমন—শুল্ক হ্রাস, সহজ ঋণ সুবিধা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।
প্যাকেজিং শিল্পের প্রতিবন্ধকতা
১. কাঁচামালের উচ্চমূল্য ও আমদানি নির্ভরতা
বাংলাদেশের প্যাকেজিং শিল্পের বড় অংশই কাঁচামালের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। প্লাস্টিক রজন, বিশেষ কাগজ, মুদ্রণ রং ও আঠার মতো উপাদানের উচ্চমূল্য উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে।
2. পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ
প্লাস্টিক বর্জ্য ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। সরকার পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ে জোর দিলেও বিকল্প উপকরণের উচ্চমূল্য ও অপ্রতুল সরবরাহ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৩. প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও দক্ষ জনবলের অভাব
উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ও কারিগরি জ্ঞানের অভাব রয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান আধুনিক প্যাকেজিং প্রযুক্তি গ্রহণে পিছিয়ে আছে।
৪. বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের সমস্যা
শিল্প কারখানার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
৫. প্রতিযোগিতা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ
বিদেশি ব্র্যান্ডের আধিপত্য এবং চীন ও ভারতের কম দামের প্যাকেজিং পণ্যের প্রতিযোগিতায় দেশীয় উদ্যোক্তারা অনেক সময় টিকে থাকতে পারছেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে বাংলাদেশের প্যাকেজিং শিল্প আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান খাতে পরিণত হতে পারে।
আইটি সহায়তাঃ টোটাল আইটি সলিউশন